মাছির মতো ভাসমান দাগ অনেক সময় নিরীহ, কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে তা রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।
আকাশ বা সাদা দেয়ালের দিকে তাকালে অনেকে চোখের সামনে ছোট ছোট কালো বিন্দু, সুতা বা মাকড়সার জালের মতো কিছু ভাসতে দেখেন। চোখ নাড়লে এগুলোও নড়ে। এগুলোকে Floaters বলে। আবার কেউ কেউ অন্ধকারে চোখের কোণে বিদ্যুতের মতো আলোর ঝলকানি (Flashes) দেখেন।
কেন হয়
চোখের ভেতরটা জেলির মতো একটি পদার্থ (Vitreous) দিয়ে ভরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই জেলি ধীরে ধীরে তরল হয়ে কুঁচকে যায় এবং এর ভেতরের তন্তুগুলো জট পাকিয়ে রেটিনার ওপর ছায়া ফেলে—সেটাই আমরা ভাসমান দাগ হিসেবে দেখি। জেলি যখন রেটিনা থেকে আলাদা হয় এবং রেটিনায় টান দেয়, তখন আলোর ঝলকানি দেখা যায়।
বেশি মাইনাস পাওয়ার, বয়স ৫০-এর বেশি, ছানি অপারেশনের ইতিহাস, চোখে আঘাত বা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থাকলে ঝুঁকি বেশি।
কখন সাধারণত চিন্তার কিছু নেই
অনেক দিন ধরে থাকা কয়েকটি ভাসমান দাগ, যা বাড়ছে না এবং সঙ্গে আলোর ঝলকানি বা দৃষ্টি কমা নেই—এগুলো সাধারণত নিরীহ। সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্ক এগুলোকে উপেক্ষা করতে শেখে। তবে একবার পূর্ণ চোখ পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
জরুরি সতর্কসংকেত—সেদিনই চিকিৎসা নিন
- হঠাৎ অনেক নতুন ভাসমান দাগ, যেন একঝাঁক মাছি বা কালির ছিটা
- নতুন করে বারবার আলোর ঝলকানি
- দৃষ্টির কোনো পাশ থেকে পর্দা বা ছায়া নেমে আসা
- হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া
এই লক্ষণগুলো রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়া (Retinal Tear) বা রেটিনা খুলে যাওয়ার (Retinal Detachment) ইঙ্গিত হতে পারে। রেটিনা ডিটাচমেন্ট একটি জরুরি অবস্থা—যত দ্রুত চিকিৎসা হয়, দৃষ্টি রক্ষার সম্ভাবনা তত বেশি।
পরীক্ষা কীভাবে হয়
চোখে ড্রপ দিয়ে মণি প্রসারিত করে রেটিনার কিনারা পর্যন্ত বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে Retinal Imaging, OCT বা B-Scan করা হয়। ছোট ছিদ্র বা দুর্বল অংশ পাওয়া গেলে লেজারের মাধ্যমে তা আটকে দেওয়া যায়, আর রেটিনা খুলে গেলে বিশেষায়িত সার্জারির জন্য দ্রুত রেফারাল প্রয়োজন হয়।
রোগীর করণীয়
- লক্ষণ দেখা দিলে ভারী কাজ ও ঝাঁকুনি এড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসুন
- পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করবেন না
- উচ্চ মাইনাস পাওয়ার বা ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা করান
ALO Eye Hospital-এ রেটিনার রোগের মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় লেজারের পরামর্শ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার রেফারালের ব্যবস্থা রয়েছে—দেখুন রেটিনা ও ডায়াবেটিক চোখের সেবা, লেজার চক্ষু চিকিৎসা এবং চোখের পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক।
মনে রাখুন
- পুরনো, স্থির ভাসমান দাগ সাধারণত নিরীহ; হঠাৎ নতুন দাগ ও ঝলকানি জরুরি।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
ডায়াবেটিস থাকলে চোখ পরীক্ষা কেন বছরে অন্তত একবার জরুরি
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শুরুতে কোনো লক্ষণ দেয় না—তাই নিয়মিত পরীক্ষাই দৃষ্টি রক্ষার একমাত্র উপায়।
ডায়াবেটিক রোগীর ফলোআপ যেন হারিয়ে না যায়: স্টাফদের ট্র্যাকিং গাইড
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির রোগী ফলোআপ মিস করলে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। রেকর্ড, রিমাইন্ডার ও কাউন্সেলিংয়ের পদ্ধতি।
উচ্চ রক্তচাপ চোখেরও ক্ষতি করে: যা জানা জরুরি
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।