রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।
উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’, কারণ দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি হৃদযন্ত্র, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। অনেকেই জানেন না যে উচ্চ রক্তচাপ চোখের রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আসলে রেটিনা শরীরের একমাত্র জায়গা যেখানে সরাসরি রক্তনালি দেখা যায়, তাই চোখ পরীক্ষায় অনেক সময় রক্তচাপের ক্ষতি প্রথম ধরা পড়ে।
উচ্চ রক্তচাপে চোখের যে সমস্যা হতে পারে
- হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি: রেটিনার রক্তনালি সরু ও শক্ত হয়ে যাওয়া, রক্তক্ষরণ বা ফোলা
- রেটিনার শিরা বা ধমনিতে ব্লক: হঠাৎ এক চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া বা আংশিক অন্ধকার দেখা
- চোখের স্নায়ুর ক্ষতি: রক্ত সরবরাহ কমে গেলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- চোখের মাংসপেশির স্নায়ু দুর্বল হওয়া: হঠাৎ দ্বৈত দৃষ্টি বা চোখ বাঁকা হয়ে যাওয়া
সতর্ক সংকেত
- হঠাৎ এক বা দুই চোখে দৃষ্টি কমে যাওয়া
- দৃষ্টির কোনো অংশে অন্ধকার বা পর্দা
- হঠাৎ এক জিনিস দুটি দেখা
- তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে ঝাপসা দৃষ্টি
এই লক্ষণগুলো জরুরি—দেরি না করে চিকিৎসা নিন। কারণ এগুলো চোখের পাশাপাশি স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
কারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাবেন
যাদের দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ আছে, বিশেষ করে সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে, বছরে অন্তত একবার রেটিনা পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা জরুরি।
পরীক্ষা কীভাবে হয়
মণি প্রসারণ করে Fundus পরীক্ষা ও প্রয়োজনে OCT বা Retinal Imaging দিয়ে রেটিনার রক্তনালি ও স্তরগুলো দেখা হয়। বিস্তারিত দেখুন চোখের পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক।
প্রতিরোধ ও করণীয়
- রক্তচাপ নিয়মিত মাপুন এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খান
- লবণ কম খান, নিয়মিত হাঁটুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- ধূমপান ও তামাক বর্জন করুন
- ভালো বোধ করলেও নিজে থেকে রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ করবেন না
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলে রেটিনার অনেক প্রাথমিক পরিবর্তন স্থিতিশীল থাকে। ALO Eye Hospital-এ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত চোখের সমস্যার মূল্যায়ন করা হয়—দেখুন রেটিনা ও ডায়াবেটিক চোখের সেবা এবং বয়স্কদের জন্য নারী ও বয়স্ক রোগীদের বিশেষ যত্ন।
মনে রাখুন
- উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য চোখ পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষারই অংশ।
- হঠাৎ দৃষ্টি কমা কখনোই অপেক্ষা করার বিষয় নয়।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও ভাসমান কালো দাগ: কখন জরুরি
মাছির মতো ভাসমান দাগ অনেক সময় নিরীহ, কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে তা রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীর ফলোআপ যেন হারিয়ে না যায়: স্টাফদের ট্র্যাকিং গাইড
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির রোগী ফলোআপ মিস করলে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। রেকর্ড, রিমাইন্ডার ও কাউন্সেলিংয়ের পদ্ধতি।
ডায়াবেটিস থাকলে চোখ পরীক্ষা কেন বছরে অন্তত একবার জরুরি
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শুরুতে কোনো লক্ষণ দেয় না—তাই নিয়মিত পরীক্ষাই দৃষ্টি রক্ষার একমাত্র উপায়।