ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শুরুতে কোনো লক্ষণ দেয় না—তাই নিয়মিত পরীক্ষাই দৃষ্টি রক্ষার একমাত্র উপায়।
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার রোগ নয়; এটি শরীরের ছোট ছোট রক্তনালিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। চোখের পেছনের পর্দা রেটিনায় এমন ক্ষতিকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। দুঃখজনক হলো, এই রোগ অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোগী সাধারণত কিছুই টের পান না।
কাদের ঝুঁকি বেশি
- যাদের অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস আছে
- যাদের রক্তে শর্করা নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে থাকে না
- যাদের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা আছে
- গর্ভবতী নারী যাদের ডায়াবেটিস আছে
- ধূমপায়ী
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
- দৃষ্টি ঝাপসা বা ওঠানামা করা
- চোখের সামনে কালো দাগ বা সুতার মতো কিছু ভাসা
- রাতে দেখতে অসুবিধা
- হঠাৎ দৃষ্টি অনেকটা কমে যাওয়া
তবে মনে রাখবেন, লক্ষণ না থাকলেও রোগ থাকতে পারে। তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর থেকেই বছরে অন্তত একবার রেটিনা পরীক্ষা করানো উচিত, আর চিকিৎসক বললে আরও ঘন ঘন।
পরীক্ষা কীভাবে হয়
চোখে ড্রপ দিয়ে মণি প্রসারিত করে Fundus পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে OCT ও Retinal Imaging করে রেটিনার প্রতিটি স্তর দেখা হয়, যাতে ম্যাকুলায় পানি জমা (Macular Edema) বা নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি আগেই ধরা পড়ে। এসব পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে দেখুন চোখের পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
রোগের ধাপ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, লেজার বা চোখে ইনজেকশন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ আপনার হাতেই:
- রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- নিয়মিত হাঁটুন ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান
- ধূমপান ছেড়ে দিন
- চিকিৎসকের দেওয়া ফলোআপ তারিখ কখনো মিস করবেন না
ডায়াবেটিক রোগীদের ছানি তুলনামূলক আগে হতে পারে এবং গ্লুকোমার ঝুঁকিও কিছুটা বেশি। তাই পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা জরুরি।
ALO Eye Hospital-এ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও ফলোআপের ব্যবস্থা রয়েছে। বিস্তারিত দেখুন রেটিনা ও ডায়াবেটিক চোখের সেবা পাতায়।
মনে রাখুন
- ডায়াবেটিস ধরা পড়ার দিন থেকেই বছরে অন্তত একবার রেটিনা পরীক্ষা করান, লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক।
- রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামায় সাময়িক ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে; শর্করা স্থিতিশীল হলে নতুন চশমা নেওয়া ভালো।
- গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো বাড়তি চোখ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
- আগে ধরা পড়লে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও ভাসমান কালো দাগ: কখন জরুরি
মাছির মতো ভাসমান দাগ অনেক সময় নিরীহ, কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে তা রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীর ফলোআপ যেন হারিয়ে না যায়: স্টাফদের ট্র্যাকিং গাইড
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির রোগী ফলোআপ মিস করলে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। রেকর্ড, রিমাইন্ডার ও কাউন্সেলিংয়ের পদ্ধতি।
উচ্চ রক্তচাপ চোখেরও ক্ষতি করে: যা জানা জরুরি
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।