গ্লুকোমায় হারানো দৃষ্টি ফেরে না, কিন্তু আগে ধরা পড়লে বাকি দৃষ্টি রক্ষা করা যায়। কারা ঝুঁকিতে, কী করবেন।
গ্লুকোমা এমন একটি রোগ যেখানে চোখের স্নায়ু (Optic Nerve) ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চোখের ভেতরের চাপ বেশি থাকা এর প্রধান কারণ। একে ‘দৃষ্টির নীরব চোর’ বলা হয়, কারণ শুরুতে কোনো ব্যথা বা ঝাপসা দৃষ্টি থাকে না—পাশের দৃষ্টি এত ধীরে কমে যে রোগী বুঝতেই পারেন না।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
- ৪০ বছরের বেশি বয়সী
- পরিবারে মা-বাবা বা ভাইবোনের গ্লুকোমা থাকলে
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মাইগ্রেন থাকলে
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করলে
- বেশি মাইনাস বা প্লাস পাওয়ারের চশমা থাকলে
- আগে চোখে আঘাত পেয়ে থাকলে
জরুরি সতর্কতা
এক ধরনের গ্লুকোমায় হঠাৎ চোখের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন তীব্র চোখব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, চোখ লাল হওয়া এবং আলোর চারপাশে রংধনুর মতো বলয় দেখা যায়। এটি জরুরি অবস্থা—দেরি না করে হাসপাতালে আসুন।
কীভাবে শনাক্ত হয়
শুধু চোখের চাপ মাপলেই গ্লুকোমা নিশ্চিত হয় না। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে করা হয়:
- চোখের চাপ (IOP) পরীক্ষা
- Optic Nerve পরীক্ষা
- OCT দিয়ে স্নায়ুর স্তরের পুরুত্ব মাপা
- Visual Field পরীক্ষা দিয়ে পাশের দৃষ্টির ক্ষতি নির্ণয়
চিকিৎসা
অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিদিনের চোখের ড্রপই প্রধান চিকিৎসা। কিছু ক্ষেত্রে লেজার বা সার্জারির প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার লক্ষ্য হারানো দৃষ্টি ফেরানো নয়, বরং বাকি দৃষ্টি রক্ষা করা।
রোগীর করণীয়
- ড্রপ প্রতিদিন একই সময়ে দিন; ভালো লাগলেও নিজে থেকে বন্ধ করবেন না
- ড্রপ দেওয়ার পর ১–২ মিনিট চোখ বন্ধ রাখুন
- ড্রপ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সংগ্রহ করুন
- ফলোআপ ভিজিটে নিয়মিত আসুন
- পরিবারের অন্য সদস্যদেরও চোখ পরীক্ষা করান
গ্লুকোমা সারাজীবনের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখার রোগ, আর নিয়মিত চিকিৎসায় অধিকাংশ মানুষ সারাজীবন কাজে লাগার মতো দৃষ্টি ধরে রাখতে পারেন।
ALO Eye Hospital-এ গ্লুকোমা শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও ফলোআপের ব্যবস্থা রয়েছে। বিস্তারিত দেখুন গ্লুকোমা ও চোখের চাপের চিকিৎসা পাতায়।
মনে রাখুন
- চল্লিশের পর প্রতিটি চোখ পরীক্ষায় চোখের চাপ মাপা উচিত।
- পরিবারে কারও গ্লুকোমা থাকলে আপনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি—নিয়মিত পরীক্ষা করান।
- চোখের ড্রপ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সংগ্রহ করুন, যাতে একদিনও বাদ না পড়ে।
- স্টেরয়েড ড্রপ বা ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারের আগে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
কারা নিয়মিত চোখের চাপ মাপাবেন? গ্লুকোমা স্ক্রিনিংয়ের সহজ নির্দেশিকা
গ্লুকোমা লক্ষণ ছাড়াই দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী কত দিন পরপর পরীক্ষা।
ট্যারা চোখ নিয়ে ৫টি ভুল ধারণা ও আসল সত্য
ট্যারা চোখ ‘সৌভাগ্যের লক্ষণ’ বা ‘বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে’—এমন ধারণায় অনেক শিশুর দৃষ্টি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চোখে আঘাত বা কিছু পড়লে প্রথম ১০ মিনিটে যা করবেন
রাসায়নিক, ধুলা, ধানের পাতা বা আঘাত—চোখের দুর্ঘটনায় সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দৃষ্টি বাঁচাতে পারে।