ট্যারা চোখ ‘সৌভাগ্যের লক্ষণ’ বা ‘বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে’—এমন ধারণায় অনেক শিশুর দৃষ্টি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুই চোখ যখন একই দিকে না তাকিয়ে একটি চোখ ভেতরে, বাইরে, ওপরে বা নিচে সরে থাকে, তাকে ট্যারা চোখ বা Squint (Strabismus) বলে। এটি শিশু ও বড়—উভয়ের হতে পারে। সমাজে ট্যারা চোখ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত, যার কারণে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়।
ভুল ধারণা ১: “ট্যারা চোখ সৌভাগ্যের লক্ষণ”
সত্য: ট্যারা চোখ একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। শিশুর ক্ষেত্রে এটি অবহেলা করলে ট্যারা চোখটির দৃষ্টি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যাকে Lazy Eye বলে।
ভুল ধারণা ২: “বড় হলে আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে”
সত্য: নবজাতকের প্রথম কয়েক মাসে মাঝে মাঝে চোখ বাঁকা লাগা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু এরপরও থাকলে তা নিজে ঠিক হয় না। যত দেরি হবে, দৃষ্টির ক্ষতি তত স্থায়ী হতে পারে।
ভুল ধারণা ৩: “ট্যারা মানেই অপারেশন”
সত্য: অনেক ট্যারা চোখ, বিশেষ করে শিশুদের, শুধু সঠিক পাওয়ারের চশমাতেই নিয়ন্ত্রণে আসে। Lazy Eye থাকলে প্যাচিং (ভালো চোখ নির্দিষ্ট সময় ঢেকে রাখা) প্রয়োজন হয়। চশমা ও অন্যান্য চিকিৎসায় সমাধান না হলে তখন সার্জারির কথা ভাবা হয়।
ভুল ধারণা ৪: “ট্যারা চোখ শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা”
সত্য: দুই চোখ একসঙ্গে কাজ না করলে গভীরতা বা দূরত্ব বোঝার ক্ষমতা (3D দৃষ্টি) কমে যায়। শিশুর পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে।
ভুল ধারণা ৫: “বড়দের ট্যারা চোখের কিছু করার নেই”
সত্য: বড়দের হঠাৎ ট্যারা চোখ বা দ্বৈত দৃষ্টি দেখা দিলে তা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড বা স্নায়ুর কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে—এটি দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি। দীর্ঘদিনের ট্যারা চোখও অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসায় উন্নত করা যায়।
কখন পরীক্ষা করাবেন
- শিশুর চোখ বাঁকা মনে হলে, বিশেষ করে ক্লান্ত অবস্থায়
- শিশু মাথা কাত করে তাকালে বা রোদে এক চোখ বন্ধ করলে
- বড়দের হঠাৎ এক জিনিস দুটি দেখা দিলে
চিকিৎসা প্রক্রিয়া
প্রথমে দৃষ্টিশক্তি ও পাওয়ার পরীক্ষা, এরপর চোখের সারিবদ্ধতা ও মাংসপেশির মূল্যায়ন করা হয়। কারণ ও ধরন অনুযায়ী চশমা, প্যাচিং, ব্যায়াম বা সার্জারির পরিকল্পনা করা হয়।
বিস্তারিত দেখুন ট্যারা চোখ ও চোখের নড়াচড়ার সমস্যা এবং শিশুদের জন্য শিশু চক্ষু চিকিৎসা। নির্বাচিত ক্ষেত্রে Squint Surgery সম্পর্কে জানতে দেখুন অন্যান্য চক্ষু সার্জারি।
মনে রাখুন
- শিশুর ট্যারা চোখের চিকিৎসা যত আগে শুরু হয়, ফল তত ভালো।
- বড়দের হঠাৎ দ্বৈত দৃষ্টি জরুরি পরীক্ষার বিষয়।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
ডায়াবেটিক রোগীর ফলোআপ যেন হারিয়ে না যায়: স্টাফদের ট্র্যাকিং গাইড
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির রোগী ফলোআপ মিস করলে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। রেকর্ড, রিমাইন্ডার ও কাউন্সেলিংয়ের পদ্ধতি।
কারা নিয়মিত চোখের চাপ মাপাবেন? গ্লুকোমা স্ক্রিনিংয়ের সহজ নির্দেশিকা
গ্লুকোমা লক্ষণ ছাড়াই দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী কত দিন পরপর পরীক্ষা।
ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসা শিশুটি কি বোর্ড দেখতে পায়? স্কুলভিত্তিক চোখ পরীক্ষার গুরুত্ব
অনেক শিশু ঝাপসা দেখেও বলে না, ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। স্কুলে চোখ পরীক্ষা কীভাবে সমাধান দেয়।