গ্লুকোমা লক্ষণ ছাড়াই দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী কত দিন পরপর পরীক্ষা।
চোখের চাপ (Intraocular Pressure বা IOP) হলো চোখের ভেতরের তরলের চাপ। এই চাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চোখের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্লুকোমা হতে পারে। যেহেতু শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই নিয়মিত চোখের চাপ মাপাই আগে রোগ ধরার সবচেয়ে সহজ উপায়।
যাদের নিয়মিত চোখের চাপ মাপানো উচিত
- ৪০ বছরের বেশি বয়সী সবাই: অন্তত প্রতি এক-দুই বছরে একবার পূর্ণ চোখ পরীক্ষা
- পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস: মা-বাবা বা ভাইবোনের গ্লুকোমা থাকলে কম বয়স থেকেই নিয়মিত পরীক্ষা
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারকারী: চোখের ড্রপ, ইনহেলার, ক্রিম বা ট্যাবলেট—যেকোনো আকারে
- বেশি মাইনাস বা প্লাস পাওয়ার যাদের
- চোখে আগে আঘাত পেয়েছেন যারা
- মাইগ্রেন বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যা যাদের
শুধু চাপ মাপাই কি যথেষ্ট?
না। কিছু মানুষের চোখের চাপ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও গ্লুকোমা হয় (Normal Tension Glaucoma), আবার কারও চাপ একটু বেশি থাকলেও স্নায়ু সুস্থ থাকে। তাই পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে চোখের চাপের পাশাপাশি Optic Nerve পরীক্ষা, প্রয়োজনে OCT ও Visual Field পরীক্ষা করা হয়। কর্নিয়ার পুরুত্বও (Pachymetry) চাপের সঠিক ব্যাখ্যায় সাহায্য করে।
পরীক্ষা কেমন
চোখের চাপ মাপা একটি দ্রুত ও ব্যথাহীন পরীক্ষা। কিছু পদ্ধতিতে চোখে অবশ করার ড্রপ দিয়ে যন্ত্র আলতোভাবে ছোঁয়ানো হয়, কিছু পদ্ধতিতে শুধু বাতাসের ঝাপটা দেওয়া হয়। কয়েক সেকেন্ডেই শেষ।
চাপ বেশি পাওয়া গেলে
একবার চাপ বেশি পাওয়া মানেই গ্লুকোমা নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে চাপ ওঠানামা করে। চিকিৎসক প্রয়োজনে আবার মাপবেন এবং অন্যান্য পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবেন—চিকিৎসা শুরু করবেন নাকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন।
পরিবারকে সচেতন করুন
গ্লুকোমা ধরা পড়লে নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি ভাইবোন ও সন্তানদেরও পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিন। একজনের রোগ নির্ণয় পরিবারের অন্যদের দৃষ্টি বাঁচাতে পারে।
ALO Eye Hospital-এ চোখের চাপ পরীক্ষা, Optic Nerve, OCT ও Visual Field পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লুকোমা শনাক্তকরণ ও ফলোআপ করা হয়। দেখুন গ্লুকোমা ও চোখের চাপের চিকিৎসা এবং চোখের পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক।
মনে রাখুন
- চল্লিশের পর চোখের চাপ মাপা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হওয়া উচিত।
- গ্লুকোমায় হারানো দৃষ্টি ফেরে না, তাই আগে ধরা পড়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
গ্লুকোমা: নিঃশব্দে দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া রোগকে চিনুন
গ্লুকোমায় হারানো দৃষ্টি ফেরে না, কিন্তু আগে ধরা পড়লে বাকি দৃষ্টি রক্ষা করা যায়। কারা ঝুঁকিতে, কী করবেন।
চোখের পাতায় আঞ্জনি বা গুটি: ঘরে যত্ন ও কখন চিকিৎসা দরকার
আঞ্জনি (Stye) আর Chalazion দেখতে একরকম হলেও আলাদা। কোনটিতে গরম সেঁক, কখন ছোট অপারেশন—জানুন।
চোখ ভালো রাখতে যা খাবেন: দেশি খাবারেই চোখের পুষ্টি
শাক-সবজি, মৌসুমি ফল, মাছ আর ডিম—হাতের নাগালের খাবারেই মেলে চোখের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ।