ছানি, গ্লুকোমা, রেটিনার রোগ ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি—বয়স্কদের দৃষ্টি রক্ষায় পরিবারের ভূমিকা অনেক বড়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের নানা রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। ছানি, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ম্যাকুলার রোগ ও শুকনো চোখ বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক বয়স্ক মানুষ কম দৃষ্টিকে ‘বয়সের ব্যাপার’ মনে করে চুপ থাকেন অথবা সন্তানদের ঝামেলায় ফেলতে চান না। অথচ এসব সমস্যার বেশিরভাগই সময়মতো চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পরিবারের ৮টি করণীয়
১. বছরে অন্তত একবার পূর্ণ চোখ পরীক্ষা: শুধু চশমার পাওয়ার নয়, চোখের চাপ ও রেটিনাসহ পরীক্ষা করান।
২. আচরণের পরিবর্তন খেয়াল করুন: টিভির খুব কাছে বসা, পত্রিকা পড়া বন্ধ করা, সিঁড়িতে হোঁচট খাওয়া বা মানুষ চিনতে দেরি হওয়া—এগুলো কম দৃষ্টির লক্ষণ হতে পারে।
৩. ওষুধ ও ড্রপের তালিকা রাখুন: কোন ড্রপ কোন চোখে, দিনে কতবার—একটি কাগজে লিখে রাখুন। গ্লুকোমার ড্রপ একদিনও যেন বাদ না পড়ে।
৪. ড্রপ দেওয়া শিখে নিন: হাত কাঁপলে বা দেখতে কষ্ট হলে বয়স্করা নিজে ঠিকমতো ড্রপ দিতে পারেন না। পরিবারের কেউ সঠিক নিয়ম শিখে নিন।
৫. ঘরে পর্যাপ্ত আলো: সিঁড়ি, বাথরুম ও শোবার ঘরে উজ্জ্বল আলো রাখুন। রাতে বাথরুমে যাওয়ার পথে ছোট বাতি জ্বালিয়ে রাখুন। মেঝেতে পিচ্ছিল বা আলগা কিছু রাখবেন না।
৬. ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: এ দুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলে চোখের অনেক জটিলতা এড়ানো যায়।
৭. ছানি অপারেশনে দেরি নয়: অনেক পরিবার ভয় বা খরচের কথা ভেবে ছানি অপারেশন পিছিয়ে দেন। অথচ কম দৃষ্টি বয়স্কদের পড়ে যাওয়া, হাড় ভাঙা ও একাকীত্বের অন্যতম কারণ।
৮. ফলোআপে সঙ্গে যান: চিকিৎসকের কথা বুঝতে ও মনে রাখতে বয়স্কদের সহায়তা প্রয়োজন। আগের রিপোর্ট ও ওষুধ সঙ্গে নিন।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা
- হঠাৎ এক চোখে দৃষ্টি কমে যাওয়া
- সোজা রেখা বাঁকা দেখা বা দৃষ্টির কেন্দ্রে কালো দাগ
- চোখে তীব্র ব্যথা ও লালভাব
- আলোর ঝলকানি ও হঠাৎ অনেক কালো দাগ ভাসা
মানসিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ
দৃষ্টি কমলে বয়স্করা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা হতাশা ও একাকীত্ব তৈরি করে। ভালো দৃষ্টি তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা, নামাজ-প্রার্থনা, পত্রিকা পড়া ও নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ ফিরিয়ে দেয়।
ALO Eye Hospital-এ বয়স্ক রোগীদের জন্য বিশেষ যত্ন ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে—দেখুন নারী ও বয়স্ক রোগীদের বিশেষ যত্ন। ছানি সম্পর্কে জানুন ছানি চিকিৎসা ও ফেকো সার্জারি, আর গ্লুকোমা সম্পর্কে গ্লুকোমা ও চোখের চাপের চিকিৎসা।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
কম দৃষ্টির ও বয়স্ক রোগীকে সাহায্য করার সঠিক পদ্ধতি
হাত ধরে পথ দেখানো থেকে কথা বলার ধরন—কম দেখেন এমন রোগীর মর্যাদা রক্ষা করে সহায়তার ব্যবহারিক নির্দেশনা।
গর্ভাবস্থায় চোখের পরিবর্তন: কোনটি স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কসংকেত
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনে চোখেও প্রভাব পড়ে। কখন নিশ্চিন্ত থাকবেন আর কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন।
চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও ভাসমান কালো দাগ: কখন জরুরি
মাছির মতো ভাসমান দাগ অনেক সময় নিরীহ, কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে তা রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।