ধূমপানে ছানি, রেটিনার রোগ, শুকনো চোখ ও চোখের স্নায়ুর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। ছেড়ে দিলে ঝুঁকিও কমে।
ধূমপানের ক্ষতি বলতে আমরা সাধারণত ফুসফুসের ক্যান্সার ও হৃদরোগের কথা ভাবি। কিন্তু সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা বা জর্দা-তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক রক্তের মাধ্যমে চোখেও পৌঁছায় এবং দৃষ্টির জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করে। আশার কথা হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে এসব ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে আসে।
ধূমপান চোখের যে ক্ষতি করে
ছানি: ধূমপায়ীদের ছানি তুলনামূলক কম বয়সে এবং দ্রুত পড়তে পারে। তামাকের ধোঁয়ার রাসায়নিক চোখের লেন্সের প্রোটিনের ক্ষতি করে।
ম্যাকুলার রোগ: রেটিনার কেন্দ্র ম্যাকুলার বয়সজনিত ক্ষয় (Age-related Macular Degeneration) ধূমপায়ীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে দৃষ্টির কেন্দ্রে ঝাপসা বা কালো দাগ পড়ে, পড়া ও মুখ চেনা কঠিন হয়।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি: ডায়াবেটিস রোগী ধূমপান করলে রেটিনার রক্তনালির ক্ষতি আরও দ্রুত হয়।
শুকনো চোখ: সরাসরি ধোঁয়া চোখে জ্বালা, লালভাব ও শুকনো ভাব বাড়ায়। পরোক্ষ ধূমপানেও শিশু ও পরিবারের সদস্যদের চোখে অস্বস্তি হয়।
রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি: ধূমপান রক্তনালি সংকুচিত করে, যা চোখের স্নায়ু ও রেটিনায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে।
থাইরয়েড চোখের রোগ: থাইরয়েডজনিত চোখের রোগ থাকলে ধূমপান তা আরও খারাপ করে।
পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব
ঘরে কেউ ধূমপান করলে শিশুদের চোখে অ্যালার্জি ও জ্বালা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। তাই ঘর ও গাড়ি ধোঁয়ামুক্ত রাখুন।
ধূমপান ছাড়ার কিছু কার্যকর উপায়
- ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করুন এবং পরিবারকে জানান
- ধূমপানের ইচ্ছা জাগায় এমন পরিস্থিতি (চায়ের দোকানের আড্ডা) কিছুদিন এড়িয়ে চলুন
- ইচ্ছা হলে পানি পান করুন, হাঁটুন বা অন্য কাজে মন দিন
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন প্রতিস্থাপন বা অন্যান্য সহায়তা নিন
- একবার ব্যর্থ হলে হতাশ হবেন না—অনেকেই কয়েকবার চেষ্টার পর সফল হন
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা
যারা দীর্ঘদিন ধূমপান করেছেন, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের নিয়মিত পূর্ণ চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। ছানি ও রেটিনার রোগ আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয়।
ছানি সম্পর্কে জানুন ছানি চিকিৎসা ও ফেকো সার্জারি, রেটিনার রোগ সম্পর্কে রেটিনা ও ডায়াবেটিক চোখের সেবা এবং শুকনো চোখের জন্য কর্নিয়া ও চোখের সামনের অংশের চিকিৎসা।
মনে রাখুন
- ধূমপান ছাড়ার জন্য কোনো বয়সই দেরি নয়।
- ধোঁয়ামুক্ত ঘর পরিবারের সবার চোখ ও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
মাথাব্যথা কি চোখের কারণে? চোখের ক্লান্তি, ঘুম ও মাথাব্যথার সম্পর্ক
পড়ার পর কপালে ব্যথা বা সন্ধ্যায় চোখ ভারী লাগে? কখন চশমা দরকার আর কখন অন্য কারণ খুঁজতে হবে।
চোখ ভালো রাখতে যা খাবেন: দেশি খাবারেই চোখের পুষ্টি
শাক-সবজি, মৌসুমি ফল, মাছ আর ডিম—হাতের নাগালের খাবারেই মেলে চোখের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ।
ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসা শিশুটি কি বোর্ড দেখতে পায়? স্কুলভিত্তিক চোখ পরীক্ষার গুরুত্ব
অনেক শিশু ঝাপসা দেখেও বলে না, ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। স্কুলে চোখ পরীক্ষা কীভাবে সমাধান দেয়।