চিকিৎসক কেন এসব পরীক্ষা দেন, কীভাবে হয় এবং আগে কী প্রস্তুতি লাগে—রোগীদের জন্য সহজ ব্যাখ্যা।
চোখের সঠিক চিকিৎসার প্রথম শর্ত সঠিক রোগ নির্ণয়। শুধু দেখে অনেক রোগ বোঝা যায় না, তাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু আধুনিক পরীক্ষার পরামর্শ দেন। অনেক রোগী নাম শুনে ভয় পান বা ভাবেন অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। চলুন সহজ ভাষায় জেনে নিই কোন পরীক্ষা কী কাজে লাগে।
Visual Acuity (দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা)
চার্টে অক্ষর পড়ে প্রতিটি চোখ কতটা পরিষ্কার দেখছে তা মাপা হয়। এটি প্রতিটি চোখ পরীক্ষার প্রথম ধাপ।
IOP (চোখের চাপ) পরীক্ষা
চোখের ভেতরের চাপ মাপা হয়, যা গ্লুকোমা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কয়েক সেকেন্ডের ব্যথাহীন পরীক্ষা।
Slit Lamp পরীক্ষা
বিশেষ মাইক্রোস্কোপ দিয়ে চোখের পাতা, কর্নিয়া, মণি ও লেন্স বড় করে দেখা হয়। ছানি, কর্নিয়ার ক্ষত ও প্রদাহ এতে ধরা পড়ে।
Fundus পরীক্ষা
মণি প্রসারিত করে চোখের পেছনের রেটিনা, রক্তনালি ও স্নায়ু দেখা হয়। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য জরুরি।
OCT (Optical Coherence Tomography)
আলোর মাধ্যমে রেটিনা ও চোখের স্নায়ুর স্তরগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছবি তোলা হয়, অনেকটা রেটিনার ‘স্ক্যান’-এর মতো। ম্যাকুলার রোগ, ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা ও গ্লুকোমা পর্যবেক্ষণে খুব কার্যকর। এটি স্পর্শহীন ও ব্যথাহীন।
Visual Field (দৃষ্টিক্ষেত্র) পরীক্ষা
সামনে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় চারপাশে কতটা দেখতে পান তা মাপা হয়। যন্ত্রের ভেতরে আলোর বিন্দু দেখা দিলে বোতাম চাপতে হয়। গ্লুকোমা ও স্নায়ুর রোগে পাশের দৃষ্টির ক্ষতি নির্ণয়ে এটি অপরিহার্য। মনোযোগ দিয়ে করতে হয়, তাই ভালো ঘুম ও বিশ্রাম নিয়ে আসা ভালো।
Corneal Topography ও Pachymetry
কর্নিয়ার আকৃতি ও পুরুত্ব মাপা হয়। Astigmatism, কর্নিয়ার রোগ ও গ্লুকোমার মূল্যায়নে কাজে লাগে।
A-Scan ও B-Scan
আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে চোখের দৈর্ঘ্য মাপা হয় (A-Scan), যা ছানি অপারেশনে লেন্সের সঠিক পাওয়ার নির্ধারণে অপরিহার্য। ঘন ছানি বা রক্তক্ষরণে ভেতরটা দেখা না গেলে B-Scan দিয়ে রেটিনার অবস্থা দেখা হয়।
পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি
- আগের রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন ও চশমা সঙ্গে আনুন
- মণি প্রসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তাই সঙ্গে একজন আনুন এবং সেদিন নিজে গাড়ি চালাবেন না
- কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন
ALO Eye Hospital-এ রোগীর সমস্যা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব পরীক্ষা করা হয়—বিস্তারিত দেখুন চোখের পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক। গ্লুকোমা পর্যবেক্ষণে এসব পরীক্ষার ভূমিকা জানতে দেখুন গ্লুকোমা ও চোখের চাপের চিকিৎসা।
মনে রাখুন
- প্রতিটি পরীক্ষার উদ্দেশ্য আলাদা; চিকিৎসক শুধু প্রয়োজনীয় পরীক্ষাই দেন।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
দৃষ্টিশক্তি (Visual Acuity) সঠিকভাবে মাপার স্টাফ চেকলিস্ট
প্রতিটি চোখ পরীক্ষার ভিত্তি হলো সঠিক Visual Acuity। সাধারণ ভুল এড়িয়ে নির্ভুল রেকর্ড রাখার ব্যবহারিক নির্দেশনা।
চোখে মণি বড় করার ড্রপ কেন দেওয়া হয়, পরে কী হয়
ড্রপ দেওয়ার পর চোখ ঝাপসা আর আলো বেশি লাগে কেন, কতক্ষণ থাকে এবং কী সাবধানতা নেবেন।
গর্ভাবস্থায় চোখের পরিবর্তন: কোনটি স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কসংকেত
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনে চোখেও প্রভাব পড়ে। কখন নিশ্চিন্ত থাকবেন আর কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন।