Amblyopia শৈশবে ধরা পড়লে ভালো চিকিৎসা হয়। চশমা ও প্যাচিং কীভাবে কাজ করে, অভিভাবকের ভূমিকা কী।
Lazy Eye বা Amblyopia হলো এমন অবস্থা, যেখানে চোখের গঠন স্বাভাবিক দেখালেও এক চোখের দৃষ্টি ঠিকমতো বিকশিত হয় না। শৈশবে মস্তিষ্ক যখন দেখার ক্ষমতা শিখছে, তখন কোনো চোখ পরিষ্কার ছবি না পাঠালে মস্তিষ্ক সেই চোখকে উপেক্ষা করতে শুরু করে। ফলে চোখটি ‘অলস’ হয়ে যায়।
কেন হয়
- দুই চোখের পাওয়ারে বড় পার্থক্য: এক চোখ ঝাপসা দেখলে মস্তিষ্ক ভালো চোখের ওপর নির্ভর করে
- ট্যারা চোখ: দ্বৈত দৃষ্টি এড়াতে মস্তিষ্ক বাঁকা চোখের ছবি বন্ধ করে দেয়
- দৃষ্টিতে বাধা: জন্মগত ছানি বা চোখের পাতা ঝুলে মণি ঢেকে থাকা
কেন সহজে ধরা পড়ে না
শিশুর একটি চোখ ভালো থাকায় সে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা, খেলাধুলা করে। শিশু নিজেও জানে না যে তার এক চোখে কম দেখা যায়। তাই স্কুলে ভর্তির আগে প্রতিটি শিশুর দুই চোখ আলাদাভাবে পরীক্ষা করানো জরুরি।
চিকিৎসা কীভাবে হয়
১. কারণ দূর করা: পাওয়ার থাকলে সঠিক চশমা, জন্মগত ছানি বা পাতা ঝুলে থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
২. প্যাচিং: ভালো চোখটি দিনে নির্দিষ্ট সময় ঢেকে রেখে দুর্বল চোখকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কত ঘণ্টা, কত দিন—তা চিকিৎসক ঠিক করেন।
৩. ড্রপ চিকিৎসা: কিছু ক্ষেত্রে ভালো চোখে বিশেষ ড্রপ দিয়ে প্যাচিংয়ের মতো একই ফল পাওয়া যায়।
৪. নিয়মিত ফলোআপ: দৃষ্টি কতটা উন্নত হচ্ছে তা দেখে চিকিৎসা সমন্বয় করা হয়।
অভিভাবকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
প্যাচিং শিশুর জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। শিশু প্যাচ খুলে ফেলতে চাইবে। এ সময় অভিভাবকের ধৈর্য ও উৎসাহই চিকিৎসার সফলতা নির্ধারণ করে।
- প্যাচ পরা অবস্থায় শিশুকে ছবি আঁকা, রং করা, পাজল বা পড়ার মতো কাছের কাজে ব্যস্ত রাখুন
- প্রতিদিন প্যাচিংয়ের সময় একটি ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন এবং স্টিকার দিয়ে পুরস্কৃত করুন
- স্কুলের শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন, যাতে কেউ উপহাস না করে
- চশমা সবসময় পরিয়ে রাখুন
বয়স কেন গুরুত্বপূর্ণ
শৈশবের প্রথম বছরগুলোতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি নমনীয় থাকে, তাই তখন চিকিৎসা শুরু করলে ফল সবচেয়ে ভালো হয়। বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও উন্নতি সম্ভব, তবে সময় বেশি লাগতে পারে।
ALO Eye Hospital-এ শিশুদের Lazy Eye শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা করা হয়—বিস্তারিত দেখুন শিশু চক্ষু চিকিৎসা। পাওয়ার নির্ণয়ের জন্য দেখুন চোখের পাওয়ার ও চশমা সেবা।
মনে রাখুন
- স্কুলে ভর্তির আগে দুই চোখ আলাদাভাবে পরীক্ষা করান।
- প্যাচিং ও চশমা নিয়মিত না হলে চিকিৎসা কাজ করে না।
চোখের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য; নিজের চোখের সমস্যায় অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা।
আমাদের সেবাসমূহ যোগাযোগ করুনআরও পড়ুন
শিশু রোগীর চোখ পরীক্ষা: ভয় কমিয়ে সহযোগিতা পাওয়ার কৌশল
ভয় পাওয়া শিশু থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। খেলাচ্ছলে পরীক্ষা, অভিভাবকের ভূমিকা ও ড্রপ দেওয়ার কৌশল।
ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসা শিশুটি কি বোর্ড দেখতে পায়? স্কুলভিত্তিক চোখ পরীক্ষার গুরুত্ব
অনেক শিশু ঝাপসা দেখেও বলে না, ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। স্কুলে চোখ পরীক্ষা কীভাবে সমাধান দেয়।
শিশুর চোখে সমস্যা আছে কিনা বুঝবেন যেভাবে: অভিভাবকদের জন্য ৮টি সংকেত
শিশু নিজে বলতে পারে না সে ঝাপসা দেখছে। কোন আচরণ দেখে অভিভাবক সতর্ক হবেন, জানুন।